Home / সারা বাংলা / বেগম জিয়াকে ‘লন্ডন নিতে চায়’ পরিবার

বেগম জিয়াকে ‘লন্ডন নিতে চায়’ পরিবার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। শ্বাসকষ্ট অনুভূত হওয়া গত সোমবার (৩ মে) তাঁকে কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-এ নেওয়া হয়েছে। করোনা পরবর্তী সময়ে ফুসফুসে পানি জমে যাওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে চিকিৎসক, পরিবার এবং দলের নেতাকর্মীদের মাঝে দুশ্চিন্তা ভর করেছে। এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন পরিবার সুচিকিৎসার জন্য বেগম জিয়াকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যেতে চাইছে। জানা গেছে, মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা আরেকটু স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছেন।

বেগম খালেদা জিয়া গত ১১ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হন। ২৭ এপ্রিল তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৩ মে শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় তাঁকে কেবিন থেকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। এখনো সেখানেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। এভার কেয়ার হাসপাতালের কার্ডিওলজিস্ট ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে তাঁর চিকিৎসা চলছে। একইসংগে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য।

মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানান, করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে বেগম খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্র অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ফুসফুসে পানি (ফ্লুইড) জমা হয়। এতে তার শ্বাসকষ্টের সংগে অক্সিজেন মাত্রা উঠানামা শুরু করে। যার কারণে বেগম জিয়াকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। ইতিমধ্যে তাঁর ফুসফুস থেকে তরল পানীয় বের করা হয়েছে; যা পরীক্ষা করে ক্ষতিকর কোনো জীবাণু পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ফুসফুসে আর পানি জমা হয়নি বলে এটাকে ভালো লক্ষণ বলছেন ওই চিকিৎসক। এছাড়া খালেদা জিয়ার কিডনিতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তা তেমন বড় সমস্যা নয় বলেও জানান তিনি।

ওই চিকিৎসক বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক জটিলতাগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা। কিছু নতুন ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (৫ মে) পর্যন্ত তাঁর অবস্থা অনেকটা উন্নতির দিকে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত রেমডেসিভির ইনজেকশন দেওয়ার পরে খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস ১৪ থেকে ১৮তে ওঠানামা করছে। এত কিছুর পরেও তাঁর মানসিক অবস্থা অনেক ভালো আছে। বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব-এর একজন চিকিৎসক বলেন, ম্যাডামের বয়স হয়েছে। আগে থেকেই বেশ কিছু অসুস্থতা রয়েছে। এর মধ্যে করোনার কারণে তাঁর শারীরিক দুর্বলতা বেশি মাত্রায় দেখা দিচ্ছে। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে এবং পারিবারিক পরিবেশে রাখতে পারলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

জানা গেছে, বেগম জিয়ার শারীরিক এ অবস্থায় তাঁর পরিবার চাচ্ছে তাঁকে যেকোনোভাবে বিদেশে নিয়ে যেতে। এর মধ্যে তাঁদের প্রথম চাওয়া হচ্ছে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া। সেখানে এর আগে তিনি চিকিৎসা করিয়েছেন। এছাড়া সেখানে তাঁর পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান সরাসরি চিকিৎসার দেখভাল করতে পারবেন। পরিবারের সংস্পর্শ পেলে তিনি মানসিকভাবে আরো সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরাও এ বিষয়ে মত দিয়েছেন।

আরেকটি সূত্র জানায়, তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্যরা এই মুহূর্তে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য নিতে চাইছেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনে নিতে প্রায় ১২ ঘন্টার কষ্টসাধ্য যাত্রার বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁরা এমন পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু তাঁতে বেগম খালেদা জিয়ার তেমন সায় মিলছে না। এ অবস্থায় তাঁর সংগে কথা বলার জন্য এবং শারীরিক খোঁজ নেওয়ার জন্য বুধবার (৫ মে) এভারকেয়ার হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাই শামীম ইস্কান্দারের ছেলে অভিক ইস্কান্দার, তাঁর বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলসহ আরো কয়েকজন।

বিভি/এনএম/এমএস

Check Also

আরও কঠোর লকডাউন দেওয়ার পরামর্শ জাতীয় কমিটির

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আরও কঠোর লকডাউন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *