Home / সারা বাংলা / রাজধানীর সবজি বাজার : প্রান্তিক-পাইকারি ও খুচরায় বিক্রির ব্যবধান

রাজধানীর সবজি বাজার : প্রান্তিক-পাইকারি ও খুচরায় বিক্রির ব্যবধান

এ যেন মগের মুল্লুক। রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা খেয়াল-খুশিমতো সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম রাখছেন। দেখার যেন কেউ নেই। মাঝে মাঝে বাজারসংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ মনিটরিং করলেও কাজের কাজ হচ্ছে না। হাত বদল হলেই লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বেড়ে যায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র দুই কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি বাজারে বিভিন্ন ধরনের দামে পণ্য বিক্রি চলছে। বাজারভেদে পাইকারি ও খুচরায় ব্যবধান দাঁড়ায় দুই থেকে তিনগুণ। সে তুলনায় প্রান্তিক পর্যায়ে দাম অনেক কম।

দামের ভিন্নতা নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত। জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা যে যার মতো যুক্তি দাঁড় করেছেন। পণ্যের দাম বেশি হওয়ার পেছনে সবাই দুষছেন পরিবহন ভাড়াকে। পাশাপাশি পাইকারি বাজারের শ্রমিক খরচ, বিভিন্ন চাঁদা, হাট কমিটির খাজনা, বোর্ড ভাড়া (পণ্য সংগ্রহের পর যেখানে স্তূপ করে রাখা হয়) মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলেও জানান তারা।

প্রান্তিক পর্যায় থেকে সংগ্রহের পর রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা সবজির বাজার ঘুরে দামের এ বিস্তর ব্যবধানের চিত্র উঠে এসেছে জাগো নিউজের চোখে।

সোমবার (৩ মে) দিবাগত মাঝরাতে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি নিয়ে আসেন উজ্জ্বল হোসেন এবং আকমল হোসেন নামে দুই বিক্রেতা। গ্রাম থেকে ‘ফড়িয়া’ পদ্ধতিতে পণ্য সংগ্রহ করে এ বাজারে বিক্রি করেন তারা। অন্যান্য দিনের মতো সোমবারও তারা স্থানীয় বাজার থেকে এনেছেন বেগুন, পটল, টমেটো, বরবটি, ঢেঁড়স, লাউসহ কয়েক ধরনের সবজি। রয়েছে পুঁইশাক, লালশাক আর সাদা ডাটা শাকও।

এদিন তারা কারওয়ান বাজারে পাইকারি দরে প্রতি কেজি ছোট গোল বেগুন ২০ টাকা, তাল বেগুন (কালো বড় বেগুন) ৩৬, পটল ১৪, টমেটো (দেশি) ৩৫, বরবটি ৩০, দেশি শসা ৩০, ঢেঁড়স ২২ এবং করলা বিক্রি করেছেন ২৪ থেকে ২৬ টাকায়। প্রতিটি লাউ ও জালি বিক্রি করেছেন ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে।

একই সঙ্গে এ বাজারে এদিন প্রতি কেজি পাইকারি ধনেপাতা ৪০ টাকা, পুদিনাপাতা ৪৫, গাজর ২৬ থেকে ৩০, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ২০, ঝিঙ্গা ২২, কাঁকরোল ৫০, কচুরলতি ৩০ থেকে ৪০, দুই কেজি ওজনের মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ ও বড় আকৃতির মিষ্টি কুমড়া ১১ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। এছাড়া পালংশাক, লালশাক, পাটশাক ও ছোট সাদা শাক প্রতি আঁটি ৪ থেকে ৫ টাকা, পুঁইশাক প্রতি আঁটি ১৩ থেকে ১৪, বাঁধাকপি ১৮ থেকে ২০ ও ফুলকপি ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিন রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কাছাকাছি শান্তিনগর, হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে চোখে পড়ে দামের ব্যাপক ভিন্নতা। এই তিনটি বাজারের বিক্রেতারা কারওয়ান বাজার থেকেই পাইকারি পণ্য সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রি করেন।

দেখা গেছে, শাক-সবজির দামের ব্যবধান পাইকারি থেকে খুচরায় দুই থেকে তিনগুণের বেশি। শান্তিনগর এবং হাতিরপুলের চেয়ে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে বেচাকেনা হয় কাঁঠালবাগান বাজারে। তা পাইকারি বাজারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

পাইকারির তুলনায় এ তিনটি বাজারে খুচরা দরে পণ্যের দামের তারতম্য তুলে ধরা হলো-

দামের এ ভিন্নতা নিয়ে একেক পক্ষের রয়েছে একেক মত।

সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেন। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারলে দাম কমে আসবে।

মেহেরপুরের ফড়িয়া ব্যবসায়ী উজ্জ্বল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে পণ্যের দাম অনেক কম। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এলেই দাম অনেক বেড়ে যায়। মূলত পাইকারের কাছ থেকে বের হলেই দাম বেড়ে যায় বহুগুণে। অথচ আমাদের স্থানীয় চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন না।

হাতিরপুল বাজারের বিক্রেতা সুমন জানান, পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম কম হলেও খুচরা বাজারে আনতে কেজিপ্রতি পণ্যে রয়েছে অনেক খরচ।

তিনি বলেন, ‘বাজারে মাল সংগ্রহ করে একটা জায়গায় রাখতে একটা টাকা লাগে। তারপর বাজারের টাকা, ভ্যান ভাড়া, এমনকি ভ্যান রাস্তা পার হতেও একটা চাঁদা দিতে হচ্ছে। তাছাড়া দোকানের কর্মচারীর বেতন, ভাড়া, অন্যান্য খরচের পর আমাদেরও তো কিছু থাকা চাই।’

একই কথা জানান শান্তিনগর বাজারের ব্যবসায়ী মন্টু। তিনি বলেন, ‘আমাদের লাভ বেশি হয় না, বিভিন্ন খরচে সব চলে যায়। দোকান থেকেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উৎসবে টাকা দেয়া লাগে। তাছাড়া কাঁচাবাজারের দাম আজ যেটা কম কাল সেটা বেশি হতে পারে।’

অন্যদিকে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রতিদিনই বাজার তদারকি করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। সোমবার সারাদেশে ১৭৬টি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা জানান, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত বাজারে তদারকিমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইএআর/এসএস/এমএস

Check Also

দোকান-শপিংমল খোলা

আগামী রোববার (২৫ এপ্রিল) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল খোলা থাকবে। সকাল ১০টা থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *