Home / লাইফস্টাইল / ২৯টি বি’ষাক্ত খাবার

২৯টি বি’ষাক্ত খাবার

অহরহই আমরা নাম জানা বা অজানা খাবার খাচ্ছি। এসব খাবারে অনেক সময় মরনব্যাধি রো’গ থাকে। বি’ষ থাকে। মৃ’ত্যুর আ’শঙ্কা থাকে। কিন্তু আমাদের অজ্ঞতার কারণে না বুঝেই দিব্বি এসব খাবার হজম করে যাচ্ছি।

এমন কিছু খাবার রয়েছে যা প্রায় প্রতিদিন আমাদের খাবার মেন্যুতে থাকে। থাকে রান্না ঘরেও। তবে বি’ষাক্ত খাবারগুলোর নাম জানা থাকলে আমরা সচেতন হতে পারি। বি’ষমুক্ত থাকতে পারি। যুগান্তর পাঠকদের জন্য বি’ষাক্ত এমন ২৯টি খাবারের তালিকা দেয়া হলো-

আলু

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আলু থাকে না এমন লোক খুব কমই দেখা যায়। সহজলভ্যতা, শর্করা, আর নানা ধরনের খাদ্যদ্রব্য প্রস্তত করা যায় বিধায় বিশ্বব্যাপী আলুর চা’হিদা ব্যাপক। তবে সবুজ দাগযুক্ত আলু শ’রীরের জন্য ক্ষ’তিকর। এ ধরনের আলু অর্থনৈতিক বিবেচনায়
নির্দিষ্ট সময়ের আগেই উত্তোলন করা হয়।

এতে সোলানাইন নামক বি’ষাক্ত পদার্থ থাকে যা রান্না এবং পোড়ানোর পরও দূর হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আলুর সবুজ অংশ ফে’লে দেওয়া সবসময় নিরাপদ নয়। বরং এই ধরনের আলু ব্যবহার না করাই উত্তম।

এছাড়া আলুর পাতা ও কাণ্ডে গ্লাইকো অ্যাল্কালয়েড থাকে।বাসায় অনেক দিন পর্যন্ত আলু রেখে দিলে এর মধ্যে গ্যাঁজ হয়ে যায়। এই গ্যাঁজে গ্লাইকো অ্যাল্কালয়েড থাকে যা আলোর সংস্পর্শে বৃ’দ্ধি পায়।

এজন্য আলু সবসময় ঠাণ্ডা ও অন্ধকার জায়গায় রাখতে হয়। সবুজ ও গ্যাঁজ হওয়া আলু খেলে ডায়রিয়া, মাথাব্যাথা, এমনকি কোমায় চলে যেতে পারে। ফলে মৃ’ত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

টমেটো

টমেটো একটি দৃষ্টিনন্দন শীতের সবজি। এটি একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি। সবজি হিসেবে টমেটোর জুড়ি অনেক। টমেটো আমাদের দেশে সারা বছর পাওয়া যায়। এটি যেমন কাঁচা খাওয়া যায়, ঠিক একইভাবে রান্না করে বা রান্না সুস্বাদু করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

টমেটোর কাণ্ড কোমল ও রসাল। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে টমেটো একটি ফল হলেও, সবজি হিসেবেই সারা বিশ্বে টমেটো পরিচিত। সবজি এবং সালাদ হিসেবে ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ টমেটোর বেশ চা’হিদা।

তবে আলুর মতোই টমেটোর পাতা ও কাণ্ডেও গ্লাইকো অ্যাল্কালয়েড থাকে যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে। কাঁচা সবুজ টমেটোতেও একই উপাদান আছে। তবে অল্প পরিমাণে খেলে সমস্যা নেই।

শিম বিচি

অনেকেরই পছন্দের সবজির তালিকায় আছে শিমের নাম। এটি খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। শিম, শিমের বিচি এবং শিমের পাতাও শাক হিসেবে খাওয়া যায়। শিমের বিচিতে রয়েছে উচ্চমানের ফাইবার প্রোটিন, যা শ’রীরের জন্য খুবই প্রয়োজন। এতে কোনো কোলেস্টেরল নেই।

এনার্জি বা শ’ক্তির জন্য শিমে রয়েছে শতকরা ২০ ভাগ প্রোটিন ও উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট। তবে শিমের বিচিতে ফাইটোহিমাটোগ্লু’টানিন নামক বি’ষ থাকে।

যা আপনাকে মা’রাত্মক অ’সুস্থ্য করে দিতে পারে। যার ফলে মৃ’ত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই রান্নার পূর্বে ১০ মিনিট সিদ্ধ করে তারপর রান্না করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ক্ষ’তিকারক উপাদান আর থাকবে না।

লাল মটরশুটি

স্বাস্থ্যসম্মত সবজি হিসেবে মটরশুটির খ্যাতি রয়েছে। লাল মটরশুটি যুবকদের একটি প্রাকৃতিক বসন্ত বলা হয়ে থাকে। এটি সারাবছর প্রস্তুতির জন্য আপনি প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি পাবেন। খাদ্যের ক্রমাগত খরচ হৃদয়কে শ’ক্তিশালী করতে সাহায্য করবে, ওজন হারাবে, টক্সিন অপসারণ করবে।

কিন্তু লাল মটরশুটিতে রয়েছে বি’ষাক্ত পদার্থ। আর এ বি’ষাক্ত পদার্থ দূর করতে এ ধরনের মটরশুটিকে ১০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে সেদ্ধ করতে হয়। সেদ্ধ করা ছাড়া রান্না করলে এটি দুই থেকে তিনগুণ বেশি ক্ষ’তি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, তাপ ক্ষ’তিকর সক্রিয় পদার্থকে ধ্বং’স করে। ফলে তা আমাদের শ’রীরের কোষে আ’ক্রমণ করতে পারে না। আর তাই এ মটরশুটি রান্নার আগে অবশ্যই সেদ্ধ করে নিতে হবে।

আপেল

প্রবাদে আছে– “An apple a day will keep the doctor away” অর্থাৎ আপনি যদি প্রতিদিন একটি আপেল খান তাহলে আপনাকে আর ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না। আপেলের মধ্যে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে, যা কুয়েরসেটিন নামে পরিচিত।

এটি আমাদের শ’রীরে রো’গ প্রতিরোধ ক্ষ’মতা বাড়িয়ে তোলে এবং আমাদের শ’রীর ভাল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু আপেলের বিচিতে হাইড্রোজেন সায়ানাইড নামক বি’ষ থাকে। আমরা সাধারণত আপেলের বিচি খাই না এবং একটা আপেলে খুব বেশি বিচি থাকেও না।

কিন্তু আপেলের বিচি কোন কারণে বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেললে ক্ষ’তির কারণ হতে পারে। তাই আপেলের জুস তৈরির সময় বিচি যেন না যায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

কামরাঙা

কামরাঙা চুল, ত্বক, নখ ও দাঁত উজ্জ্বল করে। মুখে ব্রন হওয়া আ’টকায়। কামরাঙা কোনোভাবেই খালি পেটে খাওয়া চলবে না। ডায়ারিয়া হলে কামরাঙা খাওয়া চলবে না। কামরাঙা একটি অক্সালেট সমৃদ্ধ ভিটামিন সি জাতীয় ফল।

সে কারণে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের কামরাঙা খেতে নি’ষেধ করছেন চিকিত্সকরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এরমধ্যে এক ধরনের অজানা নিউরোটক্সিন থাকে।

স্বাভাবিক কিডনির যা কোনো ক্ষ’তি করে না। কিন্তু কারও কিডনি খা’রাপ হলে সেই বি’ষ কিডনির আরো ক্ষ’তি করতে পারে। খাওয়ার সময় তা বোঝাও সম্ভব না।

জায়ফল

জায়ফল খাবারকে সুস্বাদু আর সুগন্ধি করে, ভেষজ উপকারিতাও অনেক। খাবারে দিলে সে খাবার চট করে ন’ষ্ট হয় না। নবম শতাব্দীর শুরুর দিকে থিওডর দ্য স্টুডাইট তাঁর শিষ্যদের খাবারের ও’পরে জায়ফল গুঁড়ো দিয়ে খেতে বলতেন।

স্বাস্থ্য আর মনোযোগ দুই-ই ভাল হবে। জায়ফল গরম মশলায় ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি বা রান্নায়। নানা রকম ও’ষুধ হিসেবেও জায়ফল ব্যবহার করা হয়।

তবে জায়ফলে মাইরিস্টিসিন আছে যা মনের ও’পরে কাজ করে। সাধারণত রান্নায় যে পরিমাণ জায়ফল ব্যবহার করা হয় তা ক্ষ’তিকর নয়। কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে বমি, ঘাম ঝরা, মাথা ঘোরা, মাথা ব্য’থা ও হ্যালুসিনেশন হয়।

সুগন্ধি মশলা

এক টুকরো ভালো ও সুগন্ধি মশলা শুকনো খাবারে মেশালে তেমন কোনো ক্ষ’তি হয় না কিংবা এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে মাথা ব্যাথা, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা এমন কি হ্যালুসিনেশনের মতো নানা ধরনের শা’রীরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে! বাদামে মিরিসটিসিন নামে এক ধরনের সাইকোঅ্যাক্টিভ উপাদান রয়েছে, যা আমাদের জন্য ক্ষ’তিকর। বিশেষজ্ঞরা বলেন, রোজম্যারি ও ওরেগানোর মতো অন্যান্য মশলা বেশি পরিমাণে খেলে আমরা আরো বেশি সক্রিয় হবো।

শুকনো ফল

আমাদের অনেকেরই শুকনো ফলের প্রতি এক ধরনের আসক্তি দেখা যায়। ধুয়ে বা না ধুয়ে অনেকসময় আমরা এসব ফল মুঠো ভরে খেয়ে ফেলি।

কিন্তু এসব ফল যত কম খাওয়া যায় আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ততটাই মঙ্গল। বাজারে বিক্রি হওয়া এসব শুকনো ফলের বেশিরভাগ সালফার এবং পটাসিয়াম জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে শিল্প কারখানায় শুকানো হয়।

যা হজমে ব্যাঘাত ঘটায়। আর তাই সুষ্ঠু হজম ক্রিয়ার জন্য শুকনো ফল বেশি পরিমাণে না খাওয়াই উত্তম। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রচুর পরিমাণ সালফারের ব্যবহার হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এ ছাড়া এটা পাকস্থলির সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। যে সব শস্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি, সেগুলোতে মাইক্রো-টক্সিন নামে এক ধরনের ছত্রাক দ্বারা আ’ক্রান্ত হতে পারে যা আমাদের জন্য বি’পজ্জনক।

বি’ষ ফল

এলডার বেরি দেখতে দারুণ। গন্ধও চমৎকার। এ ধরনের বেরি বা আঙুর দিয়ে সিরাপ তৈরি হয়। পাই বা কেকের সিজনিং, জ্যাম, চাটনি এমনকী, লিকারও তৈরি হয় এই ফল দিয়ে। কিন্তু ভালো করে রান্না করতে না পারলে বি’পদ।

এই ফলের মধ্যে থাকে বি’ষ। না পাকা অবস্থায় এই ফল খেলে মৃ’ত্যু অবধারিত। আর পাকা ফলও ঠিকভাবে রান্না করে খেতে হয়। এল্ডার বেরির পাতা এবং ডালে থাকে সায়ানাইড বি’ষ। কোনোভাবে তা পেটে চলে গেলে মৃ’ত্যু অবধারিত।

গেঁজিয়ে যাওয়া হাঙর

এটি বহু পুরনো ভাইকিং খাবার। আইসল্যান্ডে এটি জাতীয় খাবারের মর্যাদা পেয়েছে। পচে যাওয়া গ্রিনল্যান্ডের শার্ক। এ ধরনের হাঙর ধরার পর বালির নীচে পুঁতে দেওয়া হয়। ফলে হাঙরের দে’হ খানিক পচে যায়, খানিক শুকিয়ে যায়।

এভাবে ১২ সপ্তাহ রাখার পর হাঙরের শ’রীর থেকে সমস্ত তরল বেরিয়ে যায়। পচে যাওয়া সেই হাঙর তখন শুকোতে দেওয়া হয়। খাওয়া হয় আরো কয়েকমাস পর।

কাঁচা মধু

কাঁচা মধু গরম করা হয় না এবং নি’য়মিত মধুর মতো পেস্টুরাইজ করা হয় না। কাঁচা মধুতে অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এনজাইম থাকে যা গরমকালে ধ্বং’স হয়ে যায়।

কাঁচা মধুতে গ্রায়ানোক্সিন থাকে। তাই এক টেবিল চামুচ কাঁচা মধু খেলে মাথাঘোরা, দু’র্বল লাগা, অত্যধিক ঘাম হওয়া, বমি বমি ভাব হওয়া এবং বমি হওয়া এই উপসর্গ দেখা দেয়।

কাজুবাদাম

মিষ্টি কাজুবাদাম ও তেতো কাজুবাদাম এই দুই ধরণের কাজুবাদাম পাওয়া যায়।তুলনামূ’লক ভাবে তেতো কাজুবাদাম এ প্রচুর হাইড্রোজেন সায়ানাইড থাকে।সাত থেকে দশটা তেতো কাজু বাদাম কাঁচা খেলে বড়দের সমস্যা হতে পারে এবং ছোটদের জন্য প্রা’ণনাশক হতে পারে।

কিছু কিছু দেশ এই তেতো বাদাম বিক্রি করা অ’বৈধ ঘোষণা করেছ, যেমন- নিউজিল্যান্ড।আমেরিকাতে কাঁচা কাজু বাদাম বিক্রি নি’ষিদ্ধ করা হয়েছে।

তিতা কাজুবাদাম

অ্যামন্ড বা কাজু বাদাম কিন্তু বাদাম নয়, বিভিন্ন স্বাস্থ্যগুণে সমৃদ্ধ একধরণের বী’জ। কাজু বাদাম দু’ধরণের রয়েছে, মিষ্টি কাজুবাদাম এবং তিতা কাজুবাদাম। অনেকেই মিষ্টি কাজুবাদামের চেয়ে তিতা কাজুবাদাম বেশি পছন্দ করে। কেননা তিতা কাজুবাদামের গন্ধ আর স্বাদ বেশি।

কাজুবাদাম সম্প’র্কে এসব ত’থ্য আমরা অনেকেই জানি। যা জানি না তা হলো, তিতা কাজুবাদামে সায়ানাইট থাকে। যা ঠিকভাবে প্রসেসিং করা না হলে কাজুবাদামের এই বি’ষই হতে পারে আপনার মৃ’ত্যুর কারণ।

ব্রাজিলীয় বাদাম

যদিও এ ধরনের বাদামের প্রচলন আমাদের দেশে খুব একটা নেই তবুও জেনে রাখা ভালো যে এ ধরনের বাদাম সামান্য পরিমাণে খেতে হবে। এটি হচ্ছে ব্রাজিলীয় বাদাম। যা দেখতে অর্ধ-চন্দ্রাকৃতি।

এ ধরনের বাদামে রয়েছে সেলেনিয়াম যা আমাদের শ’রীরকে প্রচুর পরিমাণে বি’ষাক্ত করতে পারে। দিনে ৩টির বেশি বাদাম না খেলে সেলেনিয়াম বি’ষে আ’ক্রান্ত হওয়া এড়ানো যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাদাম যখন মানব শ’রীরে প্রবেশ করে তখন তা ঝুঁ’কিপূর্ণ হয় এবং তা ধীরে ধীরে ভ’য়াবহ আকার ধারণ করে। বাদাম হা’র্টের জন্য উপকারী হলেও তাতে যে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে তা অনেক সময় মা’রাত্মক ক্ষ’তির কারণ হতে পারে।

চেরি

চেরি জনপ্রিয় একটি ফল। চোখ ধাঁধানো হলকা টক মিষ্টি ফল চেরি। আকৃতি কিছুটা অরবড়ই-এর মত। দে’হ সামান্য খাঁচযুক্ত। কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পরে হালকা হলুদ এবং সর্বশেষ গাঢ় লাল রং ধারণ করে। গাছের আকৃতি মধ্যম মানের। চেরি হচ্ছে ‘প্রুনাস’ গণের অন্তর্ভুক্ত একটি ফল। চেরি কাঁচা বা রান্না করেও খাওয়া হয় এবং ম’দ তৈরিতে ব্যবহার হয়। চেরির পাতা এবং বী’জে বি’ষাক্ত উপাদান আছে।যখন চেরির বী’জকে চু’ষা বা চূর্ণ করা হয় তখন প্রুসিক এসিড (হাইড্রোজেন সায়ানাইড)উৎপন্ন হয়।যখন ই চেরি খাবেন এর বীচি চু’ষে খাবেন না।বরই এবং পীচ ফলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

এপ্রিকট ও বরই

চিন্তা করার কিছু নেই। এই মজাদার ফলগুলোতে কোনো বি’ষাক্ত পদার্থ নেই। বি’ষাক্ত পদার্থ রয়েছে এদের বী’জে। যা সায়ানাইড পরিবারের গোত্রভূক্ত। কখনও কখনও এগুলো দিয়ে তৈরি জ্যাম, স্প্রেড বা দু’ধ জাতীয় পণ্যসহ বিভিন্ন খাবারের প্যাকে’টের গায়ে এসবের বী’জ ফাটানো, গেলা বা চাবানো যাবে না বলে সতর্কীকরণ লেবেল সাঁটা থাকে। বিশষজ্ঞরা বলেন, বী’জের উপাদানগুলো সনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। সেই সাথে সেই সুনির্দিষ্ট ফল কম পরিমাণে খেতে হবে।

ক্যাস্টর অয়েল

রেড়ির তেল বিভিন্ন ধরণের ক্যান্ডি,চকলেট ও অন্যান্য খাদ্যে ব্যবহার করা হয়।অনেকেই আছেন যারা প্রতিদিন একটু ক্যাস্টর অয়েল খেয়ে থাকেন এবং বাচ্চাদেরকেও জো’র করে খাওয়ান।রেড়ীর বীচিতে রিচিন নামক বি’ষ থাকে যা খুবই মা’রাত্মক বি’ষ।যারা এই বী’জ সংগ্রহরের কাজ করে থাকেন তাদের মা’রাত্মক ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

রেড়ীর একটা বী’জ খেলে একজন মানুষ মা’রা যায় আর চারটা খেলে একটা ঘোড়া মা’রা যায়। আমরা ভাগ্যবান, কারণ আমরা যে ক্যাস্টর অয়েল কিনি তা ভালোভাবে প্রস্তুত করা থাকে।

ফুগু বা পাফার ফিস বা পোটকা মাছ

সবচেয়ে ভ’য়ংকর খাদ্যের এক নম্বরে আছে পাফার ফিস বা পোটকা মাছ যা জাপানে ফুগু নামে পরিচিত। ফুগু একটি অত্যন্ত দামী এবং উপাদেয় খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফুগু মাছ দেখতে অনেকটা বাংলাদেশি পোটকা মাছের মত।

তবে জাপানী বি’ষাক্তকর এই ফুগু সাইজে বাংলাদেশি পোটকা মাছের চাইতে অনেক বড়। যখন মাছটি খাবার জন্য উপযুক্তভাবে তৈরি করা হয় তখন এতে ভ’য়ের কিছু থাকে না। তবে যখন মাছটি খাবারের জন্য ভালোভাবে তৈরি করা হয় না তখন এটিই আপনার শেষ খাবার হতে পারে।

কেননা এই মাছে রয়েছে টেট্রোডোটক্সিন নামক এক প্রকার প্রা’ণঘা’তী বি’ষ যা থাকে মাছের লিভারে।তবে জাপানের আইনে, সকল রেস্টুরেন্ট এই খাবার তৈরি করা হয় না। শুধুমাত্র অভিজ্ঞ শেফ দ্বারাই এই খাবার তৈরি করা হয়।

যাদের কমপক্ষে তিন বছরের একটি ট্রেনিং করতে হয়। অনেক গন্যমান্য ফুগু শেফরা খাবারের মধ্যে খুব সামান্য পরিমান টেট্রোডোটক্সিন রেখে দেন খাবার খাওয়ার সময় কিছুটা শিহরন জাগে। সাধারণত বছরে প্রায় ১০০ জন মানুষের মৃ’ত্যু হয় এই ভ’য়ঙ্কর ফুগু পাফার ফিস বা পোটকা মাছে খেয়ে।

সানাকজি

কোরিয়াতে এ ধরনের বি’ষাক্ত অক্টোপাসের নাম সান-নাকজি। সাধারণত রান্না না করেই এ ধরনের অক্টোপাস কোরিয়ায় খেতে দেওয়া হয়। সেটাই ডেলিকেসি। তবে শ’রীর থেকে পা’গুলো আলাদা করে দেওয়া হয়। শ’রীরেই থাকে বি’ষ, যা খাওয়া যায় না। কিন্তু পা’গুলো আলাদা করে সিসেম তেল দিয়ে মাখিয়ে সার্ভ করা হলেও পা’গুলো নড়তে থাকে।

অতিথিদের বলে দেওয়া হয়, সাবধানে খেতে। যে কোনো সময় গ’লায় লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে ফেলতে পারে। এগুলো মানুষের মৃ’ত্যুর কারণ না হলেও, মা’রাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

হাকার্ল

গ্রিনল্যান্ডে একধরণের হাঙ্গরের মাংসের বেশ কদর রয়েছে। এই ধরণের হাঙ্গরের এক অদ্ভুত সমস্যা হলো, এগুলোর মূ’ত্রাশয় বা কিডনি থাকে না। ফলে শ’রীরের ক্ষ’তিকর বি’ষাক্ত সব বর্জ্য বের হতে না পেরে শ’রীরের বিভিন্ন অংশে গিয়ে জমা হয়।

ফলে এধরণের হাঙ্গর থেকে তৈরি খাবার খেলে মানুষ বিভিন্ন ধরণের খ্যাদ্যাভাসজনিত রো’গের শি’কার হতে পারে। তাই হাকার্ল রান্না করার বিশেষ সব ধাপ রয়েছে, যেগুলো না জানলে এগুলো থেকে দূরে থাকাই ভালো। তবু কে আর দূরে থাকে, যাদের খাবার তারা ঠিকই খায়।

আকি বা আকি আপেল

আকি বা আকি আপেল খুবই বি’ষাক্ত একটি ফল। এটি জ্যামাইকার জাতীয় ফল। একে ব্লাঘিয়া সাপিডা নামেও ডাকা হয়। আফ্রিকায় আকি খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। একে ফল হিসেবে কিংবা অন্যান্য ট্রেডিশনাল বিভিন্ন খাবারের সাথেও মিশিয়ে খাওয়া হয়।

তবে ঝামেলা বাধে যখন ফলটি কাচা থাকে। কারন কাচা ফলের মধ্যে থাকে হাইপোগ্লাইসিন নামক এক প্রকার বি’ষ। তবে ফল পাকার পর যখন তা লাল হয়ে যায় এবং ফলের বাইরের আবরন স্বাভাবিক ভাবেই খুলে যায় তখন তা নিরাপদেই খাওয়া যায়।

তবে পাকা ফলের মধ্যে থাকা বড় কালো বী’জের মধ্যে তখনও হাইপোগ্লাইসিন থাকে। হাইপোগ্লাইসিন বি’ষ গ্রহনের ফলে যে বি’ষক্রিয়া হয় তাতে বমি হয় এবং পরিনতিতে মৃ’ত্যুও হতে পারে। চিকিৎসা প্রনালী আবি’ষ্কারের আগে এই বি’ষে মৃ’ত্যুহার ছিলো ৮০% তবে এখন অনেকাংশেই কমে গেছে।

বন্য মাশরুম

মাশরুম অনেকেরই পছন্দের খাবার, বেশ উপাদেয়। ছোটবেলায় আমরা বনে জঙ্গলে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাঙের ছাতা গজিয়ে উঠতে দেখতাম, বড় হয়ে জেনেছি এগুলোকে মাশরুম বলে। তাই বলে, মাশরুম ভেবে ব্যাঙের ছাতা যেন খেতে যাবেন না ভু’লেও। ব্যাঙের ছাতা আর মাশরুম সমার্থক হলেও, কিছুটা ভিন্নতা কিন্তু রয়েই গেছে। ব্যাঙের ছাতা বলতে আমরা যে বন্য মাশরুমকে বুঝি, তা কিন্তু উপাদেয় নয়।

কিছু বন্য মাশরুম তো খুবই ক্ষ’তিকর। ক্ষেত্রবিশেষে মৃ’ত্যুর কারণও হতে পারে। বন্য মাশরুম মানুষের শ’রীরে অভ্যন্তরীণ ব্যাথা বেদনার সৃষ্টি করতে পারে, বমির উদ্রেক করতে পারে, এমনকি হা’র্ট, লিভার এবং কিডনি ন’ষ্ট করে দিতে পারে। শুধু মাশরুমই নয় যে কোন বন্য কিছু খাবার আগে বিশেষ ধরণের সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে।

বি’ষাক্ত ব্যাঙের ছাতা

সারা পৃথিবীতেই ব্যাঙের ছাতা খাওয়ার চল আছে। কিন্তু সব ধরনের ছাতা খাওয়া যায় না। অনেক ব্যাঙের ছাতাই হয় বি’ষাক্ত। ‘আমানিতা ফ্যালোয়ডেস’ তেমনই একপ্রকার ছত্রাক। কেউ কেউ যাকে ‘মৃ’ত্যু ছত্রাক’ও বলেন। ঠিকমতো রান্না না করে এই ছত্রাক খেলে মৃ’ত্যুও হতে পারে। কিডনি এবং লিভার ন’ষ্ট করে দেয় এই ছত্রাক।

বি’ষাক্ত ব্যাঙ

নামিবিয়ার ‘বুলফ্রগ’ খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় আছে। বলা হয়, তৃতীয় বৃষ্টির আগে একে মা’রা ঠিক নয়। তাহলে ব্যাঙের শ’রীরে বি’ষ থেকে যাবে। তৃতীয় বৃষ্টির দিনে নাকি এই ব্যাঙ সবচেয়ে বেশি ডাকতে থাকে। এরপর কাঠের উনুনে সেই ব্যাঙ রান্না করাই রেওয়াজ। এই রীতি ঠিকমতো পালন না করলে কিডনি ন’ষ্ট হওয়ার সমূহ আ’শঙ্কা।

কাসু মারুজু চিজ বা পনির

কাসু মারুজু পনির বিশ্বের সবচেয়ে মা’রাত্মক পনির। ইতালির এই পনিরটি পচা পনির নামেও পরিচিত। কাসু মারজু তৈরি হয় সার্ডিনিয়ান ভেড়ার দু’ধে থেকে। পনির তৈরির অন্যান্য প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে কাসু মারজু পনির কে রাখা হয় খোলা স্থানে যাতে করে চিজ মাছি এসে পনিরের মধ্যে ডিম পারতে পারে।

আর এই ডিম গুলোই ফার্মেন্টেশনের জন্য দায়ী। ডিম ফুটে লার্ভা বের হয় এবং লার্ভা পনিরের কিছুটা অংশ খেয়ে ফে’লে। আর এভাবেই ফারমেন্টেশন হয়। অনেকসময় পনিরের সাথে খাওয়া লার্ভা মানুষের পেটেও কিছুক্ষনের জন্য জীবিত থেকে যায়। এতে করে বিভিন্ন সমস্যা হয় যেমন: র’ক্তপড়া সহ ডায়রিয়া কিংবা খুব বেশি বমি হওয়া।

আবার লার্ভাগুলো লাফিয়ে প্রায় ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত উঠতে পারে তাই খাওয়ার সময় সাবধান থাকতে হয়। এই কাজু চিজ এখন তৈরি করা নি’ষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। তবুও কিছু লোক এটা অগোচরে বিক্রি করে এবং খায়।

কাসাভা রুট বা কাসাভার মূ’ল

কাসাভা মূ’ল সাধারনত টাপিওকা তৈরিতে ব্যবহার হয় এবং সবজি হিসেবেও অনেকের ডায়েট কন্ট্রোলে ব্যবহৃত হয়। কেননা চাল এবং ভুট্টার পর কাসাভার মূ’লেই সবচেয়ে বেশি কার্বোহাইড্রেট আছে। খাবার হিসেবে কাসাভা মুল চূর্ন করে, ভাপে সিদ্ধ করে, পুডিং হিসেবে এবং জুস তৈরি করে খাওয়া হয়।

এই গাছ কেবল আফ্রিকা এবং দক্ষিন আমেরিকাতেই দেখা যায়। কাসাভার পাতায় এবং মূ’লে রয়েছে বি’ষাক্ত হাইড্রোজেন সায়ানাইড। ভালোভাবে রান্না করা না হলে এই খাবার খেয়ে মৃ’ত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন হু এর মতে কাসাভা বি’ষে আ’ক্রান্ত প্রতি ৫ জনের একজন বি’ষক্রিয়ায় মা’রা যায়। তবে কাসাভা মুল ভালোভাবে চাষ করে, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রান্না করলে খাওয়া যায়।

জায়ান্ট বুলফ্রগ

নামিবিয়ার জনগনের কাছে জায়ান্ট বুলফ্রগ একটি রুচিকর এবং সু’খাদ্য হিসেবেই পরিচিত। বিশেষত ওভ্যাম্বো মানুষেরা এটা তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে মনে করে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশন করে। নামিবিয়ার সবচেয়ে বড় এই বুলফ্রগ লম্বায় প্রায় ১০ ইঞ্চি হয় এবং ইদুর থেকে শুরু করে অন্যান্য সরীসৃপও খায় এমনকি অন্যান্য ব্যাঙও খায়।

এই ব্যাঙের সবচেয়ে ভ’য়ের বি’ষয় হলো যখন কোন অপিরিনত ব্যাঙকে খাওয়া হয় যা এখনো বংশবৃ’দ্ধি করে নি। এই ধরনের ব্যাঙে অশিকেটাকা’টা নামক এক ধরনের বি’ষ থাকে। এই বি’ষের কারনে সাময়িক কিডনি ফেইলিয়ার হয় কিংবা মৃ’ত্যুও হতে পারে। এবং একটা ব্যাঙ খাওয়ার জন্য নিশ্চই কেউ এই রিস্ক নিতে চাইবে না!

র’ক্ত ঝিনুক

যে কোন জ্যান্ত ঝিনুকের মধ্যেই কি একটা ব্যাপার আছে, কাছ থেকে দেখলে মনে কেমন জানি অস্বস্ত্বিকর এক অনুভূতির জ’ন্ম দেয়। যা হোক, প্রশান্ত মহাসাগর, মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরের কিছু জায়গায় একধরনের ঝিনুকের চাষ হয়, যার নাম “ব্লাড ক্লামজ” বা “র’ক্ত ঝিনুক”।

এ ঝিনুক প্রচুর পরিমাণ হিমোগ্লোবিনের আধার। যে মানুষের শ’রীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব রয়েছে তার জন্য র’ক্ত ঝিনুক খু্বই উপকারী। কিন্তু বি’পদের কথা হচ্ছে, র’ক্ত ঝিনুকের মধ্যে নানা ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকে। তাই র’ক্ত ঝিনুক খেলে মানুষের আমাশয়, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস ‘এ’ সহ নানা ধরণের রো’গে আ’ক্রান্ত হবার ঝুঁ’কি থাকে।

অবশ্য মানুষ এ সব রো’গকে থোরাই কেয়ার করে! এত রো’গের ঝুঁ’কি থাকার পরেও নানা দেশের মানুষের কাছে খাদ্য হিসেবে র’ক্ত ঝিনুকের ব্যাপক চা’হিদা রয়েছে।

Check Also

বা’সর রাতে স্বা’মীর স’ঙ্গে যা হয়েছিল, অ’ভিজ্ঞতা জানালেন ৫ না’রী

বাসর রাতে কেউ বলে বাসর, কেউ বলে ফুলসজ্জা, আবার কেউ বলে সোহাগ রাত! সে যাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *